Breaking

Sunday, February 19, 2017

2/19/2017 03:51:00 PM

উমোনিয়া হয়েছে কি না, প্রাথমিক অবস্থায় বোঝার উপায় জানেন তো ?

নিউমোনিয়া হয়েছে কি না, প্রাথমিক অবস্থায় বোঝার উপায় কী?
উত্তর : নিউমোনিয়ার লক্ষণকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। একটি হলো শিশুদের। অপরটি হলো বয়স্কদের। যারা একটু বয়স্ক তারা তো বুকে ব্যথার কথা বলতে পারে। যদি দেখা যায় শিশুর শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হচ্ছে এবং যদি জ্বর থাকে তাহলে সতর্ক হতে হবে। যেকোনো সর্দি-কাশির সঙ্গে যদি জ্বর থাকে, শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়, তাহলে বুঝতে হবে তার নিউমোনিয়া হয়েছে। বয়স্কদের বেলায়ও একই কথা। সর্দি-কাশি থাকলে, জ্বর থাকলে এবং যদি শ্বাস-প্রশ্বাস বড় হলে সতর্ক হতে হবে। চিকিৎসকরা বুক পরীক্ষা করলে নিউমোনিয়ার লক্ষণ বুঝতে পারেন। এরপর তো অন্যান্য রক্ত পরীক্ষা, এক্স-রে আছেই।
প্রশ্ন : নিউমোনিয়ার ঝুঁকিতে যেন না পড়তে হয়, সে জন্য কী করণীয়।
উত্তর : নিউমোনিয়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো মৃত্যু। কারণ পৃথিবীতে বহু দেশেই শিশু ও বৃদ্ধরা এই ঝুঁকিতে পড়ে। বিশেষ করে, তারা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে যদি ঠিকমতো চিকিৎসা না হয়, অবশ্যই মৃত্যু হয়। নিউমোনিয়া দুই ভাগে হতে পারে। একটি হলো ভাইরাস নিউমোনিয়া। এটা কোনো ওষুধে কাজ করে না। আরেকটি হলো রোগ-জীবাণু দিয়ে হয়। সেটির ভালোভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। এর মধ্যেও যদি চিকিৎসা করা না হয়, নিউমোনিয়ার পরে বুকে পানি জমতে পারে। নিউমোনিয়া ভালো না হলে ফুসফুস নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পরে ওই ফুসফুসের কার্যক্ষমতা হারিয়ে যায়। ফুসফুসের মধ্যে পুঁজ জমতে পারে। এটি সহজে চিকিৎসায় ভালো হয় না।

source:
2/19/2017 03:49:00 PM

স্পর্শকাতর অঙ্গে কালো দাগ, জাদুকরি রসে হবে দূর>>

স্পর্শকাতর অঙ্গে কালো দাগ, জাদুকরি রসে হবে দূর
আমরা প্রতিদিন মুখ, হাত-পা থেকে শুরু করে শরীরের সব অঙ্গের যত্ন নিয়ে থাকি। কিন্তু তারপরও দেহের স্পর্শকাতর গোপন অঙ্গ বিশেষ করে বগল, দুই থাইয়ের মাঝে, প্রজনন অঙ্গ, হিপ, কোমরে কালো দাগ দেখা যায়।
পোশাকের ঘর্ষণ থেকে শুরু করে লোম পরিষ্কারসহ নানা কারণে এসব অঙ্গে দাগ হয়ে যায়।এসময় লজ্জায় বা অস্বস্তির কারণে আমরা পার্লারে যেতে চাই না।
যাদের ওজন একটু বেশী, তারাই এ সমস্যায় পড়ে থাকেন। প্রসাধনী ব্যবহার করেও কোনও উপকার পাচ্ছেন না। কারণ এটা বসে যাওয়া জেদি দাগ, তাই এ দাগগুলো হটাতে একটু পরিশ্রম তো করতেই হবে? কী পরিশ্রমের কথা শুনে ভয় পেয়ে গেলেন? না ভয় পাওয়ার কিছু নেই ঘরোয়া উপায়ে সহজেই এ সমস্যা থেকে আপনি রেহাই পেতে পারেন!
তাই আসুন জেনে নিন কীভাবে আধা ঘণ্টায় চলে যাবে স্পর্শকাতর অঙ্গের কালো দাগ:
আলুর রস : আলু রস স্পর্শকাতর অঙ্গের কালো দাগ সহজেই দূর করে। প্রতিদিন গোসলের আগে আক্রান্ত স্থানে আলুর রস লাগিয়ে রাখুন। ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
শসার রস : শসার রস যে কোনও স্পর্শকাতর অঙ্গের দাগ দূর করার জন্য দারুণ উপকারী। এতে ত্বকের কোনও ক্ষতিও হয় না। দাগের স্থানগুলোতে শসার রস লাগিয়ে রাখুন ২০/২৫ মিনিট। তারপর ধুয়ে ফেলুন। কয়েকদিন ব্যবহারেই উপকার পাবেন।
লেবুর রস : লেবুর রস হচ্ছে প্রাকৃতিক ব্লিচ। কিন্তু এটি সরাসরি স্পর্শকাতর অঙ্গে সরাসরি ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে জ্বলুনি বাড়তে পারে। লেবুর রসের সঙ্গে শসার রস ও এক চিমটি হলুদ মিশিয়ে নিন। তারপর একে লাগান আক্রান্ত স্থানে। লেবুর ও হলুদ দাগছোপ দূর করবে আর শসা রক্ষা করবে ত্বককে। ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।
দুধ ও মুলতানি মাটি : কাঁচা দুধের সঙ্গে মুলতানি মাটি ও গোলাপ পানি মিশিয়ে পেস্ট করে নিন। এই মিশ্রণ ত্বকে লাগিয়ে রাখুন, শুকিয়ে গেলে ধুয়ে ফেলুন। এই প্যাক মুখেও ব্যবহার করতে পারেন।
দই ও হলুদ : দইয়ের সঙ্গে এক চিমটি হলুদ, সামান্য লেবুর রস ও চিনি মিশিয়ে নিন। এই মিশ্রণটি স্ক্রাবের মত আলতো হাতে ঘষে ঘষে লাগান। তারপর রেখে দিন ২০ মিনিটের জন্য। পরে ধুয়ে ফেলুন ঠাণ্ডা পানি দিয়ে।
সাবধানতা
* উপরের উল্লেখি যে কোন প্যাক ব্যবহারের পরই স্পর্শকাতর অঙ্গে ব্যবহার করবেন খুব ভালো কোনও ময়েশ্চারাইজার।
* গোপন অঙ্গে বাজারের নানা রকম রঙ ফর্সা করার ক্রিম ব্যবহার করবেন না। তাহলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
* বডি স্প্রে বা ডিওডোরেন্ট কখনোই সরাসরি স্প্রে করবেন না।

source:
2/19/2017 01:52:00 PM

অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ : উপরের পেটে তীব্র ব্যথার একটি কারন



অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ : উপরের পেটে তীব্র ব্যথার একটি কারন
আমাদের পেটের উপরিভাগে একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ থাকে অগ্ন্যাশয় নামে। যাকে প্যানক্রিয়াস বলা হয়। এ অঙ্গটির দুটো কাজ।
১) এটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কিছু হরমোন নিঃসরণ করে; যেমন : ইনসুলিন, গ্লুকাগন ইত্যাদি।
২) কিছু এনজাইম ক্ষরণ করে যা আমাদের খাবার হজম এবং বিপাকে সাহায্য করে।
অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহকে বলা হয় প্যানক্রিয়াটাইটিস। যে যে কারণে প্যানক্রিয়াটাইটিস হয়ে থাকেঃ
১. পিত্তথলিতে পাথর (৫০-৭০%)
২. মদ্যপান
৩. ERCP নামক অপারেশানের পর
৪. হাইপারট্রাইগ্লিসারাইডেমিয়া
৫. পেটে কোনো আঘাত, ইত্যাদি।
কী কী উপসর্গ নিয়ে আসেন রোগীরা?
১. হঠাৎ করে উপরের পেটের মাঝের দিকে ব্যথা শুরু হয়। এ ব্যথার কিছু বৈশিষ্ট্য আছে।
– কয়েক মিনিটের মধ্যে ব্যথার মাত্রা অনেক তীব্র ও মারাত্নক হয়ে যায়।
– একটানা তীব্র ব্যথা হতে থাকে। কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত এ ব্যথা থাকতে পারে।
– সাধারণ ব্যথার ওষুধে এ ব্যথা কমে না।
– ৫০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রেই এ ব্যথা পিঠের দিকে ছড়িয়ে পড়ে।
– কিছু কিছু রোগী সামনের দিকে ঝুঁকে বসলে ব্যথা কিছুটা লাঘব হয়।
– এ ব্যথাটা সাধারণত ভারী কোনো চর্বিযুক্ত আহারের পর শুরু হয়।
২. বমিবমি ভাব।
৩. বমি হওয়া।
৪. বারবার বমির উদ্রেক হওয়া।
৫. হেঁচকি ওঠা ইত্যাদি।
চিকিৎসক আপনার ক্লিনিক্যাল পরীক্ষা করে কী কী পেতে পারেন?
১. জণ্ডিস
২. হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া
৩. শ্বাসপ্রশ্বাসের হার বেড়ে যাওয়া
৪. রক্তচাপ কমে যাওয়া
৫. জ্বর
৬. নাভির চারপাশে বা পেটের দুদিক নীলাভ রঙের হয়ে যাওয়া
৭. পেটে চাপ দিলে ব্যথা হওয়া এবং শক্ত অনুভব
৮. উপরের পেটের মাঝখানে চাকা চাকা অনুভূত হওয়া ইত্যাদি।
কী কী টেস্ট করানো হয় সাধারণত?
১. রক্তে প্যানক্রিয়াস থেকে নিঃসৃত কিছু এনজাইম, সেরাম এমাইলেজ ও লাইপেজ। সাধারণ মাত্রার চেয়ে ৩-৪ গুণ বেড়ে যায় সাধারণত ।
২. রোগী যদি ব্যথা শুরু হবার ৭২ ঘণ্টা পর আসে তাহলে প্রস্রাবে এনজাইম দেখা হয়, ইউরিনারি এমাইলেজ।
৩. পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি
৪. পেটের সিটি স্ক্যান ইত্যাদি।
চিকিৎসা : যদি তীব্রতা কম থাকে তবে ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা করা যায়। তবে যদি তীব্রতা বেশি থাকে তবে HDU বা ICU -তে রোগীর চিকিৎসা করা হয়।
১. রোগীকে মুখে কিছু খেতে দেওয়া নিষেধ।
২. নাকে নল ঢুকিয়ে রাখা হয়
৩. শিরায় স্যালাইন দেওয়া হয়
৪. শিরাপথে এন্টিবায়োটিক এবং ব্যথার ওষুধ দেওয়া হয়
৫. প্রস্রাবের রাস্তায় নল বা ক্যাথেটার দেওয়া হয় প্রয়োজনে ইত্যাদি।
সাধারণ অপারেশান করা হয় না। তবে প্যানক্রিয়াটাইটিস যদি পিত্তথলির পাথরের কারণে হয়, তবে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ERCP অপারেশান করতে হয়।
প্রতিরোধে করণীয় কী?
১. মদ্যপান পরিহার করতে হবে।
২. ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
৩. স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হবে।


source:
2/19/2017 01:48:00 PM

ওষুধ ছাড়াই প্রেসার স্বাভাবিক রাখতে যা করবেন!

ওষুধ ছাড়াই প্রেসার স্বাভাবিক রাখতে যা করবেন!
ক্রমেই বদলাচ্ছে জীবনযাপনের ধরন। আর সেই বদলির বাড়তি পাওনা ঘরে ঘরে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা। বাড়তি রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে লাইফস্টাইল মডিফিকেশন না করে বেশিরভাগ মানুষই দারস্থ হন ওষুধের কিন্তু জানেন কি কয়েকটি সহজলভ্য খাবারেই আপনি হার মানাতে পারেন রক্তচাপের চোখ রাঙানিকে?
নারকেলের পানি –
গবেষণায় দেখা গিয়েছে ডাব বা নারকেলের পানি রক্তচাপ কমাতে পারে ১২ পয়েন্ট পর্যন্ত। ২০ আউন্স নারকেলের জলে ১৫০০ মিলিগ্রাম পট্যাশিয়াম আছে। এই খনিজ মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

তিলের তেল –
এই তেলে স্বাস্থ্যকর পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড আছে। আর রয়েছে সিসামিন কম্পাউন্ড। ব্লাড ভেসেলের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এই তেল। ফলে নিয়ন্ত্রণে থাকে রক্তচাপ। রান্নায় ব্যবহার করার পাশাপাশি স্যালাড ড্রেসিং হিসেবেও ব্যাবহার করতে পারেন তিলের তেল।
দারচিনি –
যাঁদের হাইপারটেনশনের সমস্যা আছে তাঁরা যদি নিয়মিত আধ চা-চামচ দারচিনিগুঁড়ো খেতে পারেন, তাহলে ১২ সপ্তাহের মধ্যেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে অবাধ্য রক্তচাপকে।
চা খান ইচ্ছেমতো –
গ্রিন টি-র মাহাত্ম্য নিয়ে সবাই সরব হলেও, ব্ল্যাক টিও কিন্তু একইভাবে উপকারী। এতে আর্টারি রিল্যাক্সিং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে যা ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।
সবুজের সংস্পর্শে থাকুন –
প্রকৃতির সঙ্গে সম্পর্ক তো কবেই হারিয়ে গেছে। কিন্তু হৃদয়কে বাঁচাতে আর রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবুজ প্রকৃতির জুড়ি মেলা ভার। সবুজের সু-প্রভাব আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত রাখে, স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের প্রভাব কম পড়ে শরীরে। তাই চেষ্টা করুন, সামান্য হলেও কিছুটা সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটাতে।
সোজা হয়ে বসুন –
শিড়দাঁড়া সোজা করে বসার চেষ্টা করুন সব সময়। ঘাড়ের কাছে এমন কিছু স্পর্শকাতর স্নায়ু আছে যা মস্তিষ্কে শান্তির বার্তা পাঠায়। কুঁজো হয়ে বা বেঁকে বসলে এই সব স্নায়ুর স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হয়।
আলু রাখুন খাবারে –
হ্যাঁ, ঠিকই পড়ছেন। আলু রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রতিদিন খাবারে সিদ্ধ বা বেকড আলু রাখুন। এতে রয়েছে পট্যাশিয়াম, ক্লোরোজেনিক অ্যাসিড এবং ট্রাইপটোফান। রক্ত ধমনীর স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে আলু। ।
জোরে শ্বাস নিন –
ধীরে ধীরে গভীর নিঃশ্বাস নিন। প্রতিমিনিটে ১০টি গভীর শ্বাস নিন। এতে স্ট্রেস দূর হয়। ফলে হৃদয়ের উপরে বাড়তি চাপ পড়ে না, আর রক্তচাপও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

source:
2/19/2017 01:45:00 PM

কোলেস্টেরল আধিক্যের প্রভাব ও প্রতিরোধ

কোলেস্টেরল আধিক্যের প্রভাব ও প্রতিরোধ
কোলেস্টেরল এক ধরনের চর্বি বা ফ্যাট জাতীয় পদার্থ যা রক্তে পাওয়া যায়। শরীরের স্বাভাবিক কাজ ও সু-স্বাস্থ্যের জন্য এর গুরুত্ত অপরিসীম। কোলেস্টেরল আমাদের শরীরে মূলত দুটি উৎস থেকে আসে, একটি খাবারের মাধ্যমে ও আরেকটি শরীরের ভিতরে লিভার তৈরি করে এবং আমরা যখন চর্বি জাতীয় খাবার বেশি খাই তখন লিভারের কোলেস্টেরল তৈরির হার বেড়ে যায়। সবশেষে এই কোলেস্টেরল রক্ত সঞ্চালনের মাধ্যমে আমাদের দেহের সমস্ত রক্তনালিতে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকসময় রক্তে কোলেস্টেরলের পরিমান বেড়ে যায় যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গবেষনায় প্রমানিত একজন স্বাভাবিক মানুষের চাইতে কোলেস্টেরল অধিকযুক্ত মানুষের হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন স্ট্রোক ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেক বেশি। তাই স্বাভাবিক এর চেয়ে এর পরিমান যত বেশি থাকবে ততই এই ঝুঁকি বাড়তে থাকবে।
কোলেস্টেরল কী কাজ করে ?
আমাদের শরীর প্রতিনিয়ত কোলেস্টেরল তৈরি করে যাচ্ছে এবং এটি শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে সাহায্য করে। যেমন-
১। হরমোন যেমন মহিলা ও পুরুষের সেক্স হরমোন, কোর্টিসন হরমোন ইত্যাদি তৈরিতে।
২। ভিটামিন ডি তৈরিত, যা পরিপাক নালী থেকে ক্যলসিয়াম শোষণ, হাড় গঠন ও আমাদের মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
৩। পিত্তরস তৈরিতে যা খাদ্য পরিপাক ও চর্বিতে দ্রবনীয় ভিটামিনগুলোর পরিপাকে সাহায্য করে।
৪। আমাদের দেহের কোষের দেয়ালে থাকে যা কোষের স্বাভাবিক কাজ চালিয়ে যেতে অত্যন্ত গুরুত্তপুর্ন।
কোলেস্টেরল কয় ধরনের হয়?
সাধারণত দুই ধরনের কোলেস্টেরল আছে। তাদের মধ্যে একটি ভাল কোলেস্টেরল যার পরিমান কমে গেলে ও আরেকটি খারাপ কোলেস্টেরল যার পরিমান অধিক থাকলে হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন স্ট্রোক ও অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি বেড়ে যায়। যেমন-
১। লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন (LDL) বা খারাপ কোলেস্টেরল।
২। হাই ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন (HDL) বা ভাল কোলেস্টেরল।
LDL কে খারাপ কোলেস্টেরল বলা হয় কেন?
এটি সাধারণত কোষগুলোতে প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল পৌছায় দেয় কিন্ত রক্তে এর পরিমান বেড়ে গেলে ধমনির দেয়ালে ক্ষতিকর প্লাক তৈরিতে সাহায্য করে যার ফলে অনেক সময় রক্তনালী ব্লক করে রক্ত সঞ্চালনে ব্যঘাত ঘটায় যার ফলে হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন স্ট্রোকের মত সমস্যা হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত ঘটতে পারে। তাই এর পরিমান বেশি থাকা স্বাস্থ্যের জন্য খারাপ এবং তাই রক্তে সব সময় সঠিক লেভেলে থাকা গুরুত্তপুর্ন। রক্তে এলডিএলের স্বাভাবিক লেভেল হলো কমপক্ষে ১০০ মিলিগ্রাম পার ডিএল।
HDL কে ভাল কোলেস্টেরল বলা হয় কেন?
এইচডিএল ধমনির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার সময় খারাপ কোলেস্টেরলকে সরিয়ে দিতে সাহায্য করে ও লিভারে পাঠিয়ে দেয় ও পরবর্তীতে তা শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমে। প্রক্ষান্তরে এর পরিমান কমে গেলে হৃদরোগের ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এইচডিএলের স্বাভাবিক লেভেল ৪০ থেকে ৬০ বা তার বেশি মিলিগ্রাম পার ডিএল।
কি কারণে কোলেস্টেরলের পরিমান বাড়তে পারে?
অধিক পরিমান স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার গ্রহন।
অতিরিক্ত মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহনও পরোক্ষ ভাবে বাড়ায়।
অধিক ওজন থাকা যা আমাদের ভাল কোলেস্টেরলের পরিমান কমিয়ে দেয়।
যথেষ্ট শারীরিক পরিশ্রম না করা।
অধিক পরিমান মদ্য সেবন।
ধূমপান করা। সিগারেটে এক ধরনের পদার্থ থাকে “এক্রোলিন” যা ভাল কোলেস্টেরলের কাজ করা ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
উচ্চরক্ত চাপ ও ডায়বেটিস থাকলে।
কিছু রোগ যেমন লিভারের ও কিডনি রোগ থাকলে ও থাইরয়েড হরমোন কম তৈরি হলে।
এছাড়া পরিবারে অধিক কোলেস্টেরলের ইতিহাস থাকলে সন্তানের বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকে।
কখন কোলেস্টেরল লেভেল টেস্ট করতে দেন ডাক্তার?
হার্টের ধমনীতে ব্লক থাকলে, স্ট্রোকে ও মিনি স্ট্রোক হয়ে থাকলেও এছাড়া সম্ভাবনা থাকলে।
পরিবারে কারো হৃদরোগ থাকলে।
ওজন বেশি থাকলে।
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়বেটিস থাকলে অথবা অন্য যেকোণ সমস্যা যেখান কোলেস্টেরলের পরিমান বেড়ে যায়।
এছাড়া কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধ খাওয়ার পর সঠিক মাত্রা পরিমাপ করতে করতে দেয়া হয়।
কোলেস্টেরল বেশি থাকলে প্রতিরোধ করার উপায়?
কোলেস্টেরল কমাতে প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর কম স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত সুষম খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক ব্যায়াম ও ধূমপান পরিহার করা।
স্যাচুরেটেড ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার কম খেতে হবে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায় প্রানিজ খাবার যেমন- যেমন লাল মাংস, মাখন, ঘি, ডিমের কুসুম, কেক, বিস্কিট, পাম অয়েল ও নারিকেলের তেল ও ট্রান্স ফ্যাট থাকে ভাজা পড়া খাবার ও প্রক্রিয়াজাত খাবারে।
জলপাইয়ের তেল এবং জলপাইয়ের তৈরি খাদ্য খাওয়া যাবে। অলিভ অয়েল বা জলপাইয়ের তেলে রয়েছে মনো-আনসেচুরেটেড ফ্যাটি এসিড ও ভিটামিন ই।
প্রচুর পরিমান শাকসব্জি খেতে হবে।
অ্যান্টি অক্সিডেন্ট-সম্বৃদ্ধ ফল ও সবজি যেমন কমলা, গ্রেপফল, লেবু, ক্র্যানবেরি, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাকবেরি, সবুজ বা চায়নিজ পাতাকপি, ব্রকোলি ইত্যাদি। এছাড়া ভিটামিন সি-এর আরেকটি ভালো উৎস হচ্ছে মরিচ।
অপ্রক্রিয়াজাত দানাদার খাবার খেতে হবে। সব ধরনের অপ্রক্রিয়াজাত দানাজাতীয় খাবারে ভিটামিন বি ও মিনারেলস রয়েছে।
মাছ
ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড-জাতীয় খাদ্য ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড-জাতীয় খাদ্য।
সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত ৩০-৪৫ মিনিট শারীরিক পরিশ্রম করতে হবে।
ধূমপান পরিহার করতে হবে একদম।
কখন কোলেস্টেরল কমানোর জন্য ওষুধ খাওয়া লাগতে পারে?
যদি আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকে হয়ে থাকলে।
হার্টের রকনালিতে ব্লক থাকলে
ডায়াবিটিস থাকলে।
পায়ের রক্তনালিতে জমাট বাধলে।
থাইরয়েড এর সমস্যায়।
এছাড়া যেকোন সমস্যা যেখানে স্বাভাবিক জীবনধারায় পরিবর্তন এনে পরিমান কমানো যাচ্ছে না বা স্বাস্থ্য ঝুঁকি বেশি থেকে যাচ্ছে।

source: